জোড়াসাঁকোয় অনেক রবীন্দ্রনাথ....

স্টাফ রাইটার    2017-05-12

একদিনে এতো রবীন্দ্রনাথকে পাওয়া। বিশ্বাসই হতে চায় না! হ্যাঁ আজ তো ২৫শে বৈশাখ। এটা জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। কত শিল্পী, কত শিল্পী মন, কত সুন্দর, কত অসুন্দর সব মিলেমিশে একাকার। আবালবৃদ্ধবনিতা লাইনে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্র মিউজিয়াম দেখছেন। কেউবা মেলা থেকে রবীন্দ্রনাথের পট কিনছেন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। মালার পর মালা দিয়ে রবীন্দ্রানাথকে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। মনেপড়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সেই কবিতা ‘ফুলগুলো সরিয়ে নাও আমার বড় লাগছে’। কেউবা গান শুনছেন। এরই মাঝে কারো কারো রবি-প্রণাম অন্তর ছুঁয়ে যায়। শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায় গাইলেন ‘শ্রাবণের ধারার মত পড়ুক ঝড়ে’। সত্যি যেন রবীন্দ্রনাথের সুরটি আমাদের মুখের পরে বুকের পরে ঝড়ে পরল শ্রীরাধার সুরের মাধুর্যের মধ্যে দিয়ে। যখন তিনি গাইলেন ‘যে শাখায় ফুল ফোটে না, ফল ধরে না একেবারে,/ তোমার ওই বাদল-বায়ে দিক জাগায়ে সেই শাখারে।’ এই শব্দবন্ধে চোখে অজান্তেই জলে ভোরে ওঠে। এ যেন আমাদের মত ব্যর্থ মানুষের হতাশার আর্তি।
স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত গাইলেন ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাইনা। (মোহমেঘ তোমারে দেখিতে দেয় না)।’ আমারা বহু সাধনায় পরমকে দেখতে পাই কোন এক মুহূর্তে । তারপর সে হারিয়ে যায়। ‘ক্ষণিক আলোকে আঁখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে/ ওহে ‘হারাই হারাই’ সদা ভয় হয়, হারাইয়া ফেলি চকিতে।’ এতো ভরাট গলায় স্পষ্ট উচ্চারণে স্বাগতালক্ষ্মী যখন গায়, ‘ওহে এত প্রেম আমি কোথা পাব, নাথ, তোমারে হৃদয়ে রাখিতে।’ তখন বলতেই হয় দয়া কর যেন তোমায় স্মরণে রাখতে পারি হে কবি। রোহিনী রায় চৌধুরী শোনালেন, ‘নাই বা ডাকো রইব তোমার দ্বারে/ মুখ ফিরালে ফিরব না এইবারে।’ সত্যি রবীন্দ্রনাথের ওপর এ যেন আমাদের চিরকালীন দাবি। সি-স্কেলে অবলীলায় গানটি গাইলেন রোহিনী।
দেবাশিস রায়চৌধুরীর গলায়, ‘যে ধ্রুবপদ দিয়েছ বাঁধি’ সুন্দর গাইলেন। জগন্নাথ বসু, গৌতম বুদ্ধের ওপর লেখা রবীন্দ্রনাথের কয়েক ছত্র পাঠ করে শোনান। ধর্ম নিয়ে যখন হানাহানি তখন রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি জানাটা জরুরী। ‘বহু বাসনায় প্রাণপনে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে।’ গানটি যেমন সৃষ্টি তেমনি সুন্দর গাইলেন রচয়িতা রায়। ‘না চাহিতে মোরে যা করেছ দান- আকাশ আলোক তনু মন প্রাণ দিনে তুমি নিতেছ আমায় সে মহা দানেরই যোগ্য করে।’ একি যে-সে বলতে পারেন, রবীন্দ্রনাথ পারেন, কত কৃতজ্ঞ সেই পরম-পুরুষের কাছে। তাই আমরা তার গান দিয়েই রবীন্দ্রনাথের পূজা করি। ‘জানি নাই গো সাধন তোমার বলে কারে।’ গানটি সমীরণ সান্যাল ভালই গাইলেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে। ‘ওরা কাজ করে’ ও ‘শঙ্খ’ কবিতাগুলি আবৃত্তি করলেন দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি। ‘বহে নিরন্তর অনন্ত ধারা’ রাগ ভিত্তিক গানটি এ্যারিনা মুখার্জি গাইলেন বেশ। প্রণতি ঠাকুর ‘রাজভিখারি’ কবিতাটি শোনান। শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায় শোনালেন, ‘বাহিরে ভুল হানবে যখন অন্তরে ভুল ভাঙবে কি?/ বিষাদবিষে জ্বলে শেষে তোমার প্রসাদ মাঙবে কি?’ ‘সুখ’ কবিতাটা সুন্দর আবৃত্তি করে শোনালেন। শেষ লাইনটি বড় নাড়া দিয়ে গেল-যা ছিল সুখ তাই হয়েছে শান্তি। রবীন্দ্রনাথের ১৫৭তম জন্মদিন আজও আমাদের সুখ ও শান্তির জন্য তাকেই ডেকে নি। অন্য কোনো পথ জানা নেই। কোনো দিন কাউকে একটা রবীন্দ্র সংগীত শোনাতে বলেছিলাম। শোনাই নি সে। আজ সারাদিন সুরে ভেসে রইলাম। মন কানায় কানায় পূর্ন হয়ে গেল। সেদিনের অপূর্ণতা কতটা গভীর ছিল আজ তা বুঝতে পারলাম পূর্ণতার মাঝে।

স্টাফ রাইটার,2017-04-14

বিশিষ্ট টেরাকোটার শিল্পী দোলন কুন্ডুর প্রদর্শনী চলেছে। তাজবেঙ্গল হোটেলের পাম লাউঞ্জে। ৮টি ফ্রেমে ধরা পড়েছে সুন্দর টেরাকোটার কাজগুলি। দোলনের প্রিয় বিষয়গুলি দুর্গা, কৃষ্ণ, গনেশ, লক্ষ্মী, পেঁচা, মাছ সবই আছে। কেবল তারা নতুন রূপে এসেছে শিল্পীর চিশেল থেকে। মাটির সরা যখন ....

স্টাফ রাইটার,2017-03-30

রবীন্দ্রনাথ লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণের ব্যাপারে খুবই যত্নশীল ছিলেন। লোকসংস্কৃতিকে বাঁচাতে তিনি প্রবন্ধ রচনা করেছেন। সেগুলি নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর সেই ইচ্ছাপূরণে এগিয়ে এসেছে উত্তরপূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্য এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। জোড়াসাঁকো, ঠাকুরবাড়ির মঞ্চে ২৫ মার্চ ......

কিংকরী দাস,2017-03-29

বৈচিত্রের দেশ ভারত। এক নয়। একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে যে মালাগাথা হয় তার সৌন্দর্যই আলাদা। প্রতিটি ফুল মালার প্রয়োজনে, কেউ মালাকে ছাড়িয়ে যায়না, অথচ প্রত্যেকে স্বমহিমায় প্রস্ফূটিত। ‘চাঁদের হাট’-এ তেমনই বহু শিল্পীকে নিয়ে এক নতুন সৃজনী। বিভিন্ন স্বাধীন শিল্প মনকে নিয়ে কাজ

স্টাফ রাইটার,2017-03-20

এবছর ক্ল্যাসিক্যাল গান দিয়ে হলি খেলল আকাশবানী ও দূরদর্শন কেন্দ্র কলকাতা। ‘বসন্ত উৎসব’ পালিত হল জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির দালানে। ১৭ ও ১৮ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের এই অনুষ্ঠান চলে। অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করেন, রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য সব্যসাচী...

স্টাফ রাইটার,2017-03-20

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে এসেছেন ঠিক। কিন্তু এখন রিভার্স মার্জার হতে পারে অর্থাত টিএমসির সঙ্গে কংগ্রেস যুক্ত হতে পারে, বলেন ডেরেক। উত্তরে চিদাম্বরম বলেন তোমার দল আঞ্চলিক দল, কংগ্রেস জাতীয় দল। তাকে ২৯ রাজ্যের জন্য ২৯টা স্ট্যাটেজি তৈরি করতে হয়। একটা....

স্টাফ রাইটার,2017-03-17

৯ ও ১০ মার্চ ভারতে বায়োস্ফিয়ার অঞ্চলের সংরক্ষণ এবং তার রক্ষা বিষয়ের ওপর একটি দুদিনের সেমিনার হয় সল্টলেকে। ম্যান-নেচার-ইন্টারফেস-এর ওপর মূলত গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এন্থ্রপোলজিক্যাল সার্ভে আফ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। ১৯৭০ সালে ইউনেসকো বায়োস্ফিয়ার...

স্টাফ রাইটার,2017-03-16

ছবির জগত অন্য দশটা জগত থেকে সম্পূর্ন আলাদা। এখানে নিজেকে ইনভেস্ট করতে হবে। নিরাশ হলে চলবে না। শিল্পীর জার্নিটাতে উত্থান-পতন আছে। যে শিল্পী হতে চায় তাকে বলতে হবে ‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক আমি তোমায় ছাড়ব না’। ১৪ মার্চ চিত্রশিল্পী রবিন মন্ডল একথা বলেন রবীন্দ্র ভারতী.....

স্টাফ রাইটার,2017-03-15

ঝুমুর গাইয়ে উপেন্দ্রনাথ মাহাতো বা কিরিটি কর্মকারের চওড়া সুরের সঙ্গে কি শহুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা পেরে ওঠে। তাই ওয়ার্কসপে দাবি ওঠে স্যার আরও স্কেল নামান গাইতে পারছি না। বাধ্য হয়ে স্যার স্কেল নামান। গলাকে ওই স্কেলে নিয়ে যাওয়ার প্রশিক্ষণ চলবে ১৭ দিন ধরে। বাঁকুড়া, বীরভূম....

স্টাফ রাইটার,2017-03-01

লায়লা মেয়েটি খুব সাহসি এবং বৃষ্টি তার ভালই লাগে। সে ভিজছিল যতক্ষণ না পর্যন্ত ছেলেটি তাকে ছাতা দিল এবং আশ্রয় দিল জীবনে যাতে কোনোরকম বাঁচা থেকে খানিকটা ভাল অবস্থায় সে থাকতে পারে। লায়লা একসময় ভালবাসত। তারপর তার ভালবাসা তাকে আঘাত করে, সে গভীর দুঃখের ....

স্টাফ রাইটার,2017-02-17

‘পরম্পরা: দেশীয় ও লোক উৎসব’। ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারি এই উৎসব পালিত হচ্ছে ভারতীয় মিউজিয়ামের আশুতোষ হলে। আয়োজন করেছে ইস্টার্ন রিজিওনাল সেন্টার অ্যানথ্রপলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, সংস্কৃতি বিভাগ ভারত সরকার। ১৬ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন .....