রাজা-মন্ত্রীরা যখন প্রজাদের দোরগোড়ায়.....

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়    2017-05-06

বৈশাখের প্রবল নিদাঘেও শান্তির বারি মাহালি এবং মণ্ডল পরিবারে-সেই নকশালবাড়ি থেকে এই চেতলায়। দেখে মনে হচ্ছে, মোদি-মমতার দ্বৈরথের দরুন এবার প্রাচীন একটি প্রবচন পাল্টে ফেলার সময় এসেছে। এখন থেকে হয়তো বলতে হবে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় নলখাগড়ারা প্রাণ পায়। যদি প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সেনপতি অমিত শাহ্ ঢাক-ঢোল না পিটিয়ে, শিঙা না ফুঁকে এ রাজ্যে আসতেন, যদি তিনি মোহালি পরিবারের মাটির দাওয়ায় বসে চাট্টি অন্নগ্রহণ না করতেন বা মুখ্যমন্ত্রীর খাস তালুকে, চেতলায় মণ্ডল পরিবারে পদধূলি না দিতেন, তাহলে কি গীতা মাহালি মন্ত্রী গৌতম দেবের সাক্ষাৎ পেতেন, নাকি নিজেদের ঘর সামলাতে ব্যস্ত হয়ে চিত্রতারকা লকেট চট্টোপাধ্যায় কল্পনা মণ্ডলের চৌকাঠ পেরোতেন? এরই নাম বোধহয় ভারতীয় গণতন্ত্র? যেখানে প্রজাদের দ্বারা নির্বাচিত রাজা-মন্ত্রীরা প্রজাদের দ্বারে উপস্থিত হলে প্রজারাই ধন্য হয়ে যান। যদিও হওয়ার কথা ছিল বিপরীত। গলা উঠিয়ে কথা বলার প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকারের বিরোধিতা করেও মাথা উঁচিয়ে হেঁটে চলার শর্ত ছিল। গোশাবক না হয়ে মানুষ হয়ে বাঁচার কথা ছিল, মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়ার আবশ্যিকতা ছিল। আমি চিত্রকর হব না কার্টুন শিল্পী হব, তা নির্ধারণের অধিকার আমার ওপরেই ন্যস্ত ছিল। গণতন্ত্র কথা রাখেনি। তবু হঠাৎ ভারতে আজ এক নয়া গণতন্ত্রের নয়া প্রকাশে ঝলমল করে চিত্ত। আবার সকলে কেমন আশায় স্থিত, মেলাবেন তিনি মেলাবেন। রাজায়-প্রজায় তিনি মেলাবেন, ধনী দরিদ্রে তিনি মেলাবেন, হয়তি কোনওদিন ঝোড়ো হাওয়া আর পোড়ো দরজাটাকেও তিনি মিলিয়ে দেবেন, কারণ তিনি তো সর্বরোগহর ভারতীয় গণতন্ত্র। গণতন্ত্র এবং এই রাজা-প্রজা কাহিনি প্রসঙ্গে বেশ খানিকটা পিছিয়ে যাওয়া যাক।
মহীপতি আলেকজান্ডার ভারতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত। জৈন সন্ন্যাসীরা তাঁকে দেখেও উদ্দীপিত নন, নিজেদের প্রার্থনায় রত। মহীরূহ-সম অহংবোধে দৃপ্ত আলেকজান্ডার জিজ্ঞাসু না হয়ে পারলেন না, জানতে চাইলেন তাঁকে শ্বেত বসনধারী সন্ন্যাসীদের উপেক্ষার কারণ কী। জৈন সন্ন্যাসীরা যা উত্তর দিয়েছিলেন তা বর্তমান বাক্স্বাধীনতার যুগে মন্ত্রী-সান্ত্রীদের মুখের ওপর আমজনতার পক্ষে দেওয়া সম্ভব কিনা পাঠক স্বয়ং বিচার করবেন। সন্ন্যাসীরা যা বললেন তার মর্মার্থ-রাজন আলেকজান্ডার, যে খণ্ড মৃত্তিকার ওপর আমরা দণ্ডায়মান বিশ্বের যে কোনও মানুষেরই ওইটুকু মাত্র মৃত্তিকার ওপরেই অধিকার। আপনিও আমাদের মাত্রই মনুষ্যমাত্র, আপনার সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হচ্ছে আপনি সাতিশয় ব্যস্ত, যদিও কোনও সৎকাজে ব্যাপৃত নন, নিজের গৃহ থেকে বহুদূর চলে এসেছেন এবং নিজের এবং অন্যদের সামনে এক ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করছেন!....কিছুদিন পরে যখন আপনার মৃত্যু হবে তখন আপনাকে সমাধিস্থ করার জন্য যেটুকু জমি প্রয়োজন শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র সেটুকু জমিরই মালিকানা থাকবে আপনার। (অমর্ত্য সেন ‘আর্গুমেন্টেটিভ ইন্ডিয়ান’ বইয়ে এ প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন)।
এই ঘটনার পর বহুদিন কেটে গিয়েছে, এ দেশ ক্রমে সামনে চলার পথ খুঁজেছে। স্বাধীনতা লাভ করে গণতন্ত্রে বিশ্বাস রেখেছে। সে কীরকম গণতন্ত্র যে গণতন্ত্র নিজেকেই লুণ্ঠণ করতে ব্যগ্র থাকে? যেখানে রাজা-মন্ত্রীরা সিংহাসনে বসে প্রজাদের ওপরই খড়্গহস্ত হয়ে ওঠেন? যেখানে রাজার মুখের ওপর কথা বলার সাহস থাকে না কারোর, যেখানে প্রজাদের দ্বারা নির্বাচিত রাজা-মন্ত্রীরা চোখরাঙিয়ে যা বলেন তাই অবনত মস্তিষ্কে শুনতে বাধ্য হন প্রজারা? যেখানে রাজার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললে রাজদণ্ডের বিচার কশাঘাতে পরিণত হয়? এরকমই চলছিল, তারই মাঝে যেন ছন্দপতন। গণতন্ত্র নামক রঙ্গের পট পরিবর্তনে সকলেই কেমন বিস্মিত।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেরকম এক সময় এসেছে যখন রাজন্যবর্গ এই সত্যে উপনীত যে রাজত্ব নিজেদের হাতে রাখতে গেলে মূক ও বধির প্রজাদের দুধে-ভাতে রাখা ছাড়া গত্যন্তর নেই। অতএব এই উপেক্ষিত প্রজাদের কল্যাণে তাঁদের দরজার সামনে হত্যে দিচ্ছেন রাজা-রাজন্যবর্গ। মাহালি আর মণ্ডল পরিবারের কাছে সেটুকুই বা কম কি। ভারতের উত্তর আর পূর্বে গৈরিক পতাকা ওড়ার পর এ রাজ্য বিজয়ে তৎপর ভারতীয় জনতা পার্টি। স্বভাবতই তৃণমূলের হৃদস্পন্দন বাড়ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল নেত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা জানিয়েছিলেন, বিরোধিতা চলবে না। অবশ্য বিরোধিতা করার জন্য কেউই প্রায় বেঁচেবর্তে ছিল না। এক কালের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম আজ প্রায় ফসিলে পরিণত, কংগ্রেসের সিংহভাগ তৃণমূলের বিরোধিতার চেয়ে শাসক দলের অনুগ্রহ পেতে বেশি লালায়িত। এমতাবস্থায় বর্গী এসে হাজির দোরগোড়ায়। এ রাজ্য কব্জা করতে বিজেপি কোমর বেঁধে নেমেছে। বিজেপি আবার ধর্মাধর্মের তাস খেলতেও দড়। সেই বিজেপির প্রধানমন্ত্রী ওদির দক্ষিণ হস্ত অমিত শাহ্ হানা দিচ্ছেন বস্তিতে বস্তিতে। কাজেই তৃণমূল বুঝেছে, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য। আজ যে মাহালি পরিবারে অমিত শাহ্ আতিথ্য গ্রহণ করছেন, কাল সেখানে পৌঁছে যাচ্ছেন তৃণমূল মন্ত্রী গৌতম দেব। মাহালি পরিবারকে সমূলে উৎপাটিত করে নিজেদের আঙিনায় সযত্নে রোপণ করছে তৃণমূল। অন্যদিকে শিবির রক্ষায় তৃণমূলকে শাপ-শাপান্ত করে বিজেপি নেতৃত্ব চেতলার বস্তিতে পাঠাচ্ছেন চিত্রতারকাকে। সেলুলয়েডের নায়িকা সশরীরে হাজির থেকে মাহালি পরিবারকে জানাচ্ছেন, আমরা তোমাদেরই লোক।
নির্বাচন বহুদূর, তবু প্রজাদের কল্যাণে তৎপর হয়ে উঠেছে সরকার। বস্তিবাসী, হাঁ করে দেখছে গণতন্ত্রের জাদু। রাজায়-রাজায় যুদ্ধে কলাটা, মুলোটা মিলবার আশায় বাঁচছে দরিদ্র জনজাতি, সেটাই কি কম?

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়,2017-04-24

এরকমটিই তো হওয়ার কথা ছিল। অশান্ত কাশ্মীরে একটি নতুন কালো মেঘের আবির্ভাবে সে সত্যই ফের প্রতিভাত হল। ন’বছরের এক বালিকাকে গোরক্ষকেরা প্রহারেণ ধনঞ্জয় করে বুঝিয়েছে, এ দেশে গোমাতাকে চারণভূমিতেও নিয়ে যাওয়া যাবে না, যদি না, কট্টর হিন্দুবাহিনীদের কাছ থেকে শংসাপত্র না .....

N Sathiya Moorthy,2017-04-21

To elect, or re-elect a chief minister, the AIADMK needs to call only the MLAs for a meeting. But to elect a new general secretary, it would have to conduct direct elections with all registered cadres participating and voting. And that is .....

Ram Puniyani,2017-04-10

The spectacular victory of BJP in UP Assembly poll was capped by choosing of Adityanath Yogi as the Chief Minister of UP. He had not contested for the Assembly nor was he projected as the Chief Minister by BJP before polls. Why ....

Ram Puniyani,2017-04-08

After the long wait, the Supreme Court Chief Justice J.S. Khehar opined that long pending dispute of Ram Janmabhoomi-Babri Masjid should be settled out of court. (March 2017) He even offered to mediate himself in the matter.

গৌতম রায়,2017-03-23

উত্তরপ্রদেশের ভোটের প্রচার পর্বে সামাজিক মেরুকরণের ভিতর দিয়ে এমন একটা পরিবেশ গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির রচনা করে যে, কেবলমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়েরই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে তা নয়।সংখ্যালঘু মুসলমান সমাজের একটা বড়ো অংশ ও ভোটের বাক্সে নিরাশ করে নি ....

Ram Puniyani,2017-03-22

The Assembly election results of 2017 have come as a bolt to many and are a matter of deep celebration for the communal forces. While there is a slight dip in the voting percentage of BJP from 2014 general elections, the number of seats it ...

গৌতম রায়,2017-03-16

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি প্রার্থীর জয় উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের ফলাফলে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয়। বিজেপি গত ২০১৪র লোকসভা ভোটের সময়ে উত্তরপ্রদেশে একজন সংখ্যালঘুকেও দলীয় টিকিট দেয় নি।এই ভাবশার পিছনে সেদিন সবথেকে বেশি কাজ করেছিল অমিত ....

স্টাফ রাইটার,2017-02-28

মালয়ালম যাজক মহিলাদের পোশাক সম্পর্কে যা বলেছেন সে সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন রইল তাঁর কাছে। পোশাক কি? ও কেন পড়া হয়? প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মানুষ নিজেকে বাঁচানোর জন্য এক সময় পোশাক পড়তো। তারপর সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকেরও বিবর্তন হয়েছে। ক্ষমতা অনুযায়ী.....

স্টাফ রাইটার,2017-02-25

নরেন্দ্র মোদী তামিলনাড়ুর পশ্চিমে নীলগিড়ি পাহাড়ের কাছেই কোয়েমবাটুরে ১১৩ ফুট উচু শিবের মূর্তির আবক্ষ উন্মোচন করতে গিয়ে ৫০০ বিক্ষোভকারির সম্মুখীন হয়েছেন। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন বিক্ষোভকারিরা কালো বেলুনও উড়িয়ে জানিয়ে দিয়েছে পরিবেশের রক্ষাকারী কমিটির বিরুদ্ধাচারণ...

স্টাফ রাইটার,2017-02-11

উত্তর প্রদেশ: উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার সাত দফা নির্বাচনের মধ্যে প্রথম দফার ৭৩টি বিধানসভার নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এটা একটা প্রস্তুতি। এদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৪.৫ শতাংশ। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি এই অঞ্চল থেকে....