অমিত শাহের দুঃসাহস

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়    2017-04-28

ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এ রাজ্য ঘুরে গেলেন। তাঁর এবং মোদি পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, পরের নির্বাচনে তাঁদের দল অর্থাৎ বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব গগনে উদিত হবে। জনসমক্ষে এরকম আশা ব্যক্ত করলেও তাঁদের অন্তরের ইচ্ছা, এই বাংলায় পরের নির্বাচনে বিজেপি অন্তত প্রধান বিরোধী পক্ষের ভূমিকায় আবির্ভূত হোক। তাতে একদিকে যেমন রাজ্যের শাসক দলকে চাপে রাখা যাবে, তেমনই পরের লোকসভা নির্বাচন ইস্তক সমর্থকদের মধ্যে তৃণমূলকে উৎখাত করার স্বপ্ন জিইয়ে রাখা যাবে। তাঁর স্বপ্ন সাকার হবে কিনা আমার যেমন জানা নেই, বিজেপি সভাপতিরও জানা নেই, কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসাবে সে প্রয়াস তিনি জারি রাখতেই পারেন, এ ব্যাপারে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না। যে ব্যাপারে সামান্যক্ষণের জন্যেও তাঁকে কাঠগড়ায় তোলা যায় তা হলো, বিজেপির বীজ বপন করতে এ রাজ্যে এসে তাঁর বাঙালীদের সংস্কৃতিবান করে তোলার অপরিমেয় দুঃসাহস।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এ রাজ্য যেখানে একদিন সংস্কৃতির পীঠস্থান ছিল সেখানে তার আজ এত সাংস্কৃতিক অবনমন কেন? একদিন এখানে জন-গণ-মন বা বন্দে মাতরমের রচয়িতারা জন্মগ্রহণ করেছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মানুষ এ রাজ্যেই ছিলেন, ছিলেন রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের মতো পুরুষেরা। আজ আর সেদিন নেই এবং পশ্চিমবঙ্গের সে সাংস্কৃতিক অবয়বও নেই। অতএব তাঁর নিদান, এবার থেকে এই দায়িত্ব ভারতীয় জনতা পার্টি নিজের স্কন্ধে তুলে নেব এই গুরুভার এবং অতঃপর সরস্বতী পূজার দিন থেকেই এ রাজ্যে বিজেপির যাবতীয় কর্মকাণ্ডের সূচনা হবে। এ যেন বলা, সাপে কামড়েছে বলে, ডাক্তার বদ্যি ছেড়ে মা মনসার পুজো কর। প্রথম প্রশ্ন হল, বাঙালী সংস্কৃতি বলতে মাননীয় অমিত শাহ যা উদাহরণ দিলেন তা থেকেই মালুম এই বাঙালী জাতির জটিল মনস্তত্ব সম্পর্কে বিজেপি সভাপতি খুব একটা ওয়াকিবহাল নন। নাহলে অসুখের উপসর্গ এবং তার নিদান বিষয়ে এমন নাদান মন্তব্য করতে পারতেন না। আগে সরস্বতী পূজা নিয়ে আলোচনাটা শুরু করা যাক, মহানায়কদের প্রসঙ্গ পরে। ইতিমধ্যে ভারতবাসীর জানা হয়ে গিয়েছে, তেত্রিশ কোটি দেবতার মধ্যে প্রজ্ঞাপারমিতার প্রতি অমিত শাহর এই পক্ষপাতিত্বের কারণ কী। সারা দেশে যেসব রাজ্যে বিজেপি অধিষ্ঠিত সেখানে বিদ্যালয়ের প্রার্থনা হিসাবে সরস্বতী বন্দনা নিয়ে মুসলিম সমাজের সঙ্গে কট্টর হিন্দুবাদীদের (বিজেপি যার প্রতিনিধিত্ব করে থাকে) মতদ্বৈধ আজ নতুন নয়। ইসলাম নিরাকার ঈশ্বরে বিশ্বাসী, কাজেই দেবী বন্দনা দিয়ে শিক্ষা শুরু করা ধর্মবিরুদ্ধ বলে মনে করে থাকেন ইসলামপন্থীরা। এ রাজ্যের ইতিহাস ভাল করে জানা থাকলে বা ইতিহাসের প্রতি বিনম্র থাকলে অমিত শাহ জানতে পারতেন, যে মহাজাতি সদনে তিনি ভাষণ দিয়ে গেলেন, সেখান থেকেই জন-গণ-মন রচয়িতা একদিন রাখী বন্ধন শুরু করে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতির সুরটি বেঁধে দিতে চেয়েছিলেন। সেখান থেকেই সরস্বতী পূজার বন্দনা গেয়ে অমিত শাহ প্রকারান্তরে যে জন গণ মন-রচয়িতাকেই অশ্রদ্ধা জানালেন, সে বোধ তাঁর হল না। এই সঙ্গে তাঁর এই তথ্যও স্মরণে থাকা প্রয়োজন ছিল যে, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের পরিবার ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে কবি নিজেও নিরাকার ঈশ্বরেই আস্থা রাখতেন। যেমন আমাদের আদি পুরুষেরা অর্থাৎ বুদ্ধদেব বা মহাবীর জৈন প্রতিমা পূজায় আস্থা রাখতে নির্দেশ দেননি। আরও পিছিয়ে গেলে দেখব, ঋষি চার্বাকের জীবনবোধে পূজা দূর অস্ত, নাস্তিকতাই আশ্রয় পেয়েছিল। তাঁদের যদি আজ বিজেপির অনুশাসনের ঠেলায় স্কুলে দাঁড়িয়ে সরস্বতী বন্দনা করতে হত, অবস্থাটা তাঁদের পক্ষে খুব একটা সুখকর হত বলে মনে হয় না অথবা নিজেদের মতে অনড় থাকলে হয়তো তাঁদের দেশদ্রোহী বলে দেগে দেওয়া হত। বাঙালিরা সরস্বতী পুজো যেমন করেছে তেমনই বহু এমন উদার মননের পরিচয় পেয়েছে যা তাদের বিশ্বমানবের সঙ্গে যুক্ত থাকার সূত্রটি ধরিয়ে দেয়েছে। আমরা জেনেছি, আলাউদ্দিন খান সরস্বতী পুজো করেছেন, কালী প্রতিমার সামনে গড় হয়েছেন, অন্যদিকে এই মহান সঙ্গীতজ্ঞ যখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন, তখন সরস্বতীর আরেক মানসপূত্র রবিশঙ্কর তাঁর চরণে প্রাণিপাত হয়েছেন। কে হিন্দু, কে মুসলমান, সে বোধ তখন চোখের সামনে থাকে উবে গিয়েছে। বাঙালী কখনও শুধু বাঙালী হয়ে থাকেনি, সে নিজের মধ্যে বিশ্বমানবের সন্ধান না পাক, তাকে খুঁজতে জীবনপাত করেছে। বাঙালী যদি শুধুই বাঙালী থাকত, তাহলে ঈশ্বরচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, রামমোহনরা এতদিনে সত্যই প্রয়াত হয়ে যেতেন। এখান থেকেই দ্বিতীয় প্রসঙ্গের অবতারণা হয়ে যায়।
অমিত শাহ রামকৃষ্ণদেবের কথা বলেছেন, কিন্তু ভুলে গিয়েছেন, তাঁর স্বতন্ত্র ধারণাটি-যত মত তত পথ। বাঙালী মন এই উদার ধারাটির সাক্ষাৎ পেয়েছে বারবার। এই সঙ্গে ধর্ম দিয়েই যে ধর্মের কাঁটা তোলা যায় তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন এক হিন্দু বাহ্মণ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বাঙালী মননে সেই কোন যুগে রামমোহন এই প্রত্যয় জাগিয়ে দিয়ে গেছেন, বিশ্বের দরবারের পৌঁছতে গেলে অন্তরে যুক্তিবাদকেই শ্রেয় বলে মেনে নিতে হবে। বাঙালী এই কারণে শুধু বাঙালী হয়ে থাকেনি, সে হিন্দু হয়েও থাকেনি, সে মুসলমান হয়েও থাকেনি। বাঙালী সংস্কৃতি তৃণমূল সরকার বা বাম সরকার গড়েনি, বিজেপিও গড়তে পারবে না। এরপর বাঙালী সংস্কৃতির অবনমনের কথা বলার সময় অমিত শাহ জন-গণ-মন রচয়িতার কথাগুলি স্মরণ রাখলে বাধিত হব।
‘‘একদিন ব্রাহ্মণ রামানন্দ তাঁর শিষ্যদের কাছ থেকে চলে গিয়ে আলিঙ্গন করলেন নাভা চণ্ডালকে, মুসলমান জোলা কবীরকে, রবিদাস চামারকে। সেদিনকার সমাজ তাঁকে জাতিচ্যুত করলে। কিন্ত তিনি একলাই সেদিন সকলের চেয়ে বড় জাতিতে উঠেছিলেন যে জাতি নিখিল মানুষের। সেদিন ব্রাহ্মণমণ্ডলীর ধিক্কারের মাঝে দাঁড়িয়ে রামানন্দই বলেছিলেন সোহহম; সেই সত্যের শক্তিতেই তিনি পার হয়ে গিয়েছিলেন সেই ক্ষুদ্র সংস্কারগত ঘৃণাকে যা নিষ্ঠুর হয়ে মানুষে মানুষে ভেদ ঘটিয়ে সমাজস্থিতির নামে সমাজধর্মের মূলে আঘাত করে।’’

N Sathiya Moorthy,2017-04-28

Once again, pollsters and political pundits have got it wrong. Why, even Prime Minister Narendra Modi, campaigning for his Bharatiya Janata Party (BJP) indicated the party’s preparedness to consider a post-poll coalition government in the prestigious Uttar Pradesh Assembly elections. ...

সৈয়দ তানভীর নাসরীন ,2017-03-24

আনন্দ সিংহ বিস্তকে এতদিন কেউ চিনতেন না। চেনার কোনো কারণও ছিল না। কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাবা হওয়ার সুবাদে আপাতত এই ৮৪ বছরের বৃদ্ধ মিডিয়ার নজরে। এবং যোগী আদিত্যনাথের বাবা তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারেই বোমাটি ফাটিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি ...

স্টাফ রাইটার,2017-03-18

তো!, তাতে কী? মানে? বুঝলাম না, কী বলতে চাইছেন। এটাকে বলছেন, তাতে কী? হ্যাঁ, তাই বলছি। কারণ সেটাই মনে করছি। সেটাই মনে করছেন? আপনি শুনেছেন বিচারপতি কী বলেছেন? নিশীথা মাত্রে যা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে

গৌতম রায়,2017-03-15

পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।উত্তরপ্রদেশ বিজেপি দুই তৃতীয়াশ আসনে জিতেছে।উত্তরাখন্ডেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।পাঞ্জাবে বিজেপি পরাজিত হয়েছে।সেখানে প্রায় এক দশক পর ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস।মণিপুর এবং গোয়াতে মানুষের রায়ে বিজেপি ক্ষমতা দখল

N. Sathiya Moorthy,2017-03-13

Yet another UNHRC session has come and gone. As always, nearer home and afar, Sri Lankan stake-holders to the ethnic issue have said their periodic piece(s). It means nothing to anyone concerned, or anyone who is concerned.

Ram Puniyani,2017-03-13

Universities are an important place for shaping the mind and opinions of the future generations. A free open debate, intermingling of different opinions, castes, and religions shapes the students towards humane inclusive values. The academic....

সৈয়দ তানভীর নাসরীন,2017-03-08

জাতীয়তাবাদ মানে কী? আপনার যাকে অপছন্দ, সে আপনার ধর্মের লোক না হতে পারে, তাঁর গায়ের রঙ আপনার মতো না হতে পারে, তাঁর বেশভূষা অন্য ধরনের হতে পারে, এমনতর লোক দেখলেই ধরে গুলি চালিয়ে দেওয়া! দেখছেন না রোজ আমেরিকায় কী হচ্ছে! কানসাস থেকে ক্যারোলিনা গল্পটা ...

গৌতম রায়,2017-03-08

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের তাত্ত্বিক অবস্থান তৈরীতে মনুসংহিতার ভূমিকা অপরিসীম।সংগঠনটির চরম পুরুষতান্ত্রিক চিন্তাচেতনার ভিত্তি নির্মাণের আকর হল মনুসংহিতা। সঙ্ঘের বিভিন্ন রঙবেরঙের শাখা সংগঠন গুলি এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রস্তুতেও মনুসংহিতার ভূমিকা .....

সৈয়দ তানভীর নাসরীন,2017-03-07

আমার মেয়ে তাঁর নতুন কেনা রিপড ‘জিনস’ নিয়ে খুব চিন্তায়। সে কি এই রিপড জিনস পরতে পারবে? কোথায় গিয়ে ওই রিপড জিনস পরলে তাঁকে মারধোর খেতে হবে না? আমার কিশোরী কন্যার উদ্বেগ বাড়িয়েছে ইন্টারনেট দুনিয়ার একটা খবর। ইরানে ‘রিপড’ জিনস পরার ‘অপরাধ’-এ পুলিশের ....

Ram Puniyani,2017-03-06

Digvijay Singh’s tweet ‘Madrassas and Sarswati Shishu mandirs (SSM), both spread hate’ (Feb 23 2017) has evoked lot of response from diverse sections. On one hand Muslim groups have taken him on for demonization of Madrassas, ....