বড়দা নজর রাখছেন …..

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়    2017-03-29

একটু দেখে নেওয়া যাক, আমাদের সামনে এখন ক’টি পথ খোলা আছে। প্রথমেই নজরে আসবে উত্তরপ্রদেশের সুবিশাল রাজপথ, যে পথে হাঁটলে পথের শেষে যোগী আদিত্যনাথের দেখা মিলবে, কপাল ভাল থাকলে মোদীজিরও সাক্ষাৎ মিলে যেতে পারে। সে পথের পাশেই পথিকজনের তাচ্ছিল্য সঙ্গী করে পড়ে আছে কণ্টকিত এবং বন্ধুর এক পথ, যার এককালের আভিজাত্য আক্ষরিক অর্থেই পথের ধূলায় মিশে গিয়েছে, যার শেষে দেখা মিলতে পারে রাহুলজীর, যদি অবশ্য তিনি ততদিনে ফের অবকাশ সফরে বেরিয়ে নিরুদ্দেশ না হয়ে যান। তৃতীয় পথটি যথেষ্ট জনাকীর্ণ, বিভিন্ন মোড়ের মাথায় দেখা হয়ে যেতে পারে, কখনও লালুপ্রসাদ কখনও অখিলেশ বা মুলায়ম বা কেজরিওয়ালের সঙ্গে। এই তৃতীয়পথের মাঝে একটি শাখাপথ এসে সলজ্জভাবে মিশেছে, যে পথ এককালে রীতিমতো আত্মপ্রত্যয়ী ছিল, এখন তার বংশমর্যাদা থেকে আত্মগরিমা সবই গিয়েছে। শাখাপথের বাসিন্দারা এখন ক্লান্ত, শ্রান্ত, পলিতকেশ। তাঁদের মধ্যে নবীন বলতে একমাত্র সীতারাম ইয়েচুরি, কাজেই তাঁকে নিয়েই এখন টানাটানি।
আমরা, মানে গণতন্ত্রপ্রিয় ভারতবাসীরা এবার কোন পথ ধরে হাঁটতে শুরু করব, তা নিয়েই এই আলোচনা। বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রতর্কই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লা অধিকার করার আগে থেকেই হিন্দুদের সামনে, ‘মামেকং শরণং ব্রজ’ ঘোষণা করে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। হতে পারে, ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে হিন্দুদের একটি বড় অংশ তাঁর সযত্নে লালিত বাকচাতুর্যে মুগ্ধ হয়ে বিজেপিতে সমর্পিত প্রাণ হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের চল্লিশ শতাংশ নির্বাচক ভারতীয় জনতা পার্টিকে নির্বাচিত করে বার্তা দিয়েছেন, যে পুরনোদের দিন গিয়েছে, এবার নতুন কিছু হোক। অপরদিকে নতুন পথের উদ্ধত পথিক, বিজেপি, যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসনে বসিয়ে সকলকে যে বার্তা দিয়েছে তা যেমন দ্ব্যর্থহীন তেমনই অনমনীয়। আপাতদৃষ্টিতে সে বার্তা সুপ্রশাসনের মোড়কে দেওয়া হলেও তার অন্তর্লীন ইঙ্গিতটি পরিষ্কার। গোরক্ষপুর (নামটিও বেশ অর্থবহ) মঠের মঠাধ্যক্ষ উত্তরপ্রদেশকে রামরাজ্য বানাতে বদ্ধপরিকর। সকলের সঙ্গে সবার বিকাশ-এর ঘোষণা করে এলেও তাঁর কোপে পড়েছেন আমিষাশীরা। তাঁর সিদ্ধান্তের মধ্যে আপত্তিকর কিছু নেই। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ কসাইখানা চলবে না। সকলের চোখের সামনে পশুহত্যা তিনি চলতে দিতে চান না। কিন্তু তিনি তো রাতারাতি বৈধ কসাইখানার সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারেন না, কাজেই উত্তরপ্রদেশ রাতারাতি নিরামিশাষী। যাঁরা আমিষাশী তাঁদের এখন ডাঁটাচচ্চড়ি খেয়ে অথবা অতিরিক্ত ট্যাঁকের কড়ি খরচা করে ঘুরপথে আমিষ কিনে পেট ভরাতে হবে। সকলের পক্ষে কি তা সম্ভব হবে? তাতে আর মুখ্যমন্ত্রীর কী এসে গেল। এখানেই প্রশ্ন উঠছে। এই গণতান্ত্রিক দেশে কে কী খাবে বা মানুষের খাদ্যাভাস কী হবে, এবার থেকে কি বিজেপি ঠিক করে দেবে? মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, রাস্তা, ঘাটে রোমিওদের বরদাস্ত করা হবে না। অর্থাৎ, কট্টর হিন্দু হলেও তিনি কেষ্টলীলার ঘোর পরিপন্থী। প্রশ্ন হল, রামচন্দ্র রাজা হলে কি কৃষ্ণ বাণের জলে ভেসে যাবেন, যে তাঁর লীলাখেলা খোদ উত্তরপ্রদেশেই নিষিদ্ধ হবে? উত্তরপ্রদেশ সরকার বলছে, মহিলাদের ওপর রাস্তায়-ঘাটে লাঞ্ছনা রুখতেই নাকি এই ব্যবস্থা। তা ভালো, তবে প্রশাসনিক নিয়মের নামে যা চলছে তা দেখে কি সন্দেহ থাকে যে সমাজে আসলে নীতি-পুলিশ ব্যবস্থা কায়েম করার আয়োজন চলছে? সারা দেশে বিজেপি রাজের রমরমার বহু আগেই বিভিন্ন এলাকায় আমরা দেখেছি যখন হিন্দু অধিপতিরা চোখ রাঙিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, পথে ঘাটে যুবক-যুবতীরা কেমন করে চলবেন, কেমন করে বসবেন, কেমন করে খাবেন। স্কুল-কলেজে শিক্ষিকারা কী পোশাক পরে আসবেন সে বিধি বলবৎ করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী যোগীজি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়ে বুঝিয়েছেন, বিজেপি আছে আর এস এস-এই। অতএব নাগরিকরা কেমন করে চলবেন, কী কথা বলবেন, কী খাবেন, কী পরবেন, তা ঠিক করবেন বড়দা ওরফে বিজেপি এবং তার সঙ্গীসাথীরা। অর্থাৎ ব্যক্তির শরীর এবং আত্মা এখন বিজেপিগত হতে হবে। যে জীবনে অভ্যস্ত আরববাসী, সে জীবনে অভ্যস্ত হতে হবে; আফগানিস্তানে তালিবানদের ফতোয়া মেনে যেমন নিশ্চিন্তে চলে নাগরিক জীবন এ দেশেও সেই প্রথাই কায়েম করতে হবে, তবেই তো হিন্দুরা উজ্জীবিত হবে!
গৈরিক বসনধারী যোগী আদিত্যনাথের নির্বাচনোত্তর ঘোষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ হল অমরনাথ যাত্রায় এক লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা। এ যেন প্রতিটি হিন্দু দেশবাসীকে নববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার। এ নাহলে সবকো সাথ সবকা বিকাশ? আজমের যেতে গেলে জিজিয়া করটাই বাদ থাকে কেন? তাহলে অন্তত আমরা উচ্চ কণ্ঠে বলতে পারব, আমরা হিন্দু নহিকো মেষ।
অন্য যে পথগুলির কথা বলা হয়েছে, সেখানকার পথিকরা এখনও বিভ্রান্ত, তাঁদের মুখমণ্ডল পাংশু, হাঁটুতে উঠে দাঁড়াবার জোর নেই। কাজেই তাঁদের নিয়ে লিখবার বিশেষ কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন উত্তরপ্রদেশের হিন্দু মুখ্যমন্ত্রীর প্রাসাদের সামনের ফাটকে হিন্দু মন্ত্র বা সঙ্কেতের সামনে উপনীত হয়ে জোড়হস্তে প্রণাম নিবেদন করে আসেন। কারণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বয়ং এক নির্বাচিত জন প্রতিনিধি দেখিয়ে দিয়েছেন, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান আসলে এক বিরাট ভাঁওতা, যা যোগীজি অনায়াস দক্ষতায় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারেন।
অক্ষম শরীরে তাঁদের আর বেশি কিছু না করাই ভাল, কারণ বড়দা নজর রাখছেন, বিগ ব্রাদার ইজ ওয়াচিং।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়,2017-05-06

বৈশাখের প্রবল নিদাঘেও শান্তির বারি মাহালি এবং মণ্ডল পরিবারে-সেই নকশালবাড়ি থেকে এই চেতলায়। দেখে মনে হচ্ছে, মোদি-মমতার দ্বৈরথের দরুন এবার প্রাচীন একটি প্রবচন পাল্টে ফেলার সময় এসেছে। এখন থেকে হয়তো বলতে হবে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় নলখাগড়ারা প্রাণ পায়। ....

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়,2017-04-24

এরকমটিই তো হওয়ার কথা ছিল। অশান্ত কাশ্মীরে একটি নতুন কালো মেঘের আবির্ভাবে সে সত্যই ফের প্রতিভাত হল। ন’বছরের এক বালিকাকে গোরক্ষকেরা প্রহারেণ ধনঞ্জয় করে বুঝিয়েছে, এ দেশে গোমাতাকে চারণভূমিতেও নিয়ে যাওয়া যাবে না, যদি না, কট্টর হিন্দুবাহিনীদের কাছ থেকে শংসাপত্র না .....

N Sathiya Moorthy,2017-04-21

To elect, or re-elect a chief minister, the AIADMK needs to call only the MLAs for a meeting. But to elect a new general secretary, it would have to conduct direct elections with all registered cadres participating and voting. And that is .....

Ram Puniyani,2017-04-10

The spectacular victory of BJP in UP Assembly poll was capped by choosing of Adityanath Yogi as the Chief Minister of UP. He had not contested for the Assembly nor was he projected as the Chief Minister by BJP before polls. Why ....

Ram Puniyani,2017-04-08

After the long wait, the Supreme Court Chief Justice J.S. Khehar opined that long pending dispute of Ram Janmabhoomi-Babri Masjid should be settled out of court. (March 2017) He even offered to mediate himself in the matter.

গৌতম রায়,2017-03-23

উত্তরপ্রদেশের ভোটের প্রচার পর্বে সামাজিক মেরুকরণের ভিতর দিয়ে এমন একটা পরিবেশ গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির রচনা করে যে, কেবলমাত্র হিন্দু সম্প্রদায়েরই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে তা নয়।সংখ্যালঘু মুসলমান সমাজের একটা বড়ো অংশ ও ভোটের বাক্সে নিরাশ করে নি ....

Ram Puniyani,2017-03-22

The Assembly election results of 2017 have come as a bolt to many and are a matter of deep celebration for the communal forces. While there is a slight dip in the voting percentage of BJP from 2014 general elections, the number of seats it ...

গৌতম রায়,2017-03-16

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি প্রার্থীর জয় উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের ফলাফলে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয়। বিজেপি গত ২০১৪র লোকসভা ভোটের সময়ে উত্তরপ্রদেশে একজন সংখ্যালঘুকেও দলীয় টিকিট দেয় নি।এই ভাবশার পিছনে সেদিন সবথেকে বেশি কাজ করেছিল অমিত ....

স্টাফ রাইটার,2017-02-28

মালয়ালম যাজক মহিলাদের পোশাক সম্পর্কে যা বলেছেন সে সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন রইল তাঁর কাছে। পোশাক কি? ও কেন পড়া হয়? প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মানুষ নিজেকে বাঁচানোর জন্য এক সময় পোশাক পড়তো। তারপর সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকেরও বিবর্তন হয়েছে। ক্ষমতা অনুযায়ী.....

স্টাফ রাইটার,2017-02-25

নরেন্দ্র মোদী তামিলনাড়ুর পশ্চিমে নীলগিড়ি পাহাড়ের কাছেই কোয়েমবাটুরে ১১৩ ফুট উচু শিবের মূর্তির আবক্ষ উন্মোচন করতে গিয়ে ৫০০ বিক্ষোভকারির সম্মুখীন হয়েছেন। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন বিক্ষোভকারিরা কালো বেলুনও উড়িয়ে জানিয়ে দিয়েছে পরিবেশের রক্ষাকারী কমিটির বিরুদ্ধাচারণ...