বিরুদ্ধ স্রোতে পালতোলা নৌকার বয়ে চলার কথা

গৌতম রায়    2017-03-17

সময়ের ক্যানভাসে জীবনের ছবি আঁকা এক উঁচুদরের শিল্পী হলেন সোহরাব হোসেন।সরম আলির ভূবনকে জীবনের মহারণে উপস্থাপিত করে এক দশকের ও বেশি সময় আগে তিনি শব্দের আঁকিবুকিতে তুলির টান দিয়ে আমাদের চিন্তা চেতনার দ্বারকে উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন এক সঠিক অভিপ্রায় মুখে।সেই অভিপ্রায় কে সোহরাব সময়ের নিরিখে কেবল সমৃদ্ধ ই নয় বৈচিত্রমুখী করেছে।প্রান্ত ও ব্রাত্যজীবনের বারমাস্যা রচনাতে তাঁর মুন্সিয়ানা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের জগতে একটি স্থায়ী আসন দিয়েছে।কাজী আবদুল ওদুদের "নদীবক্ষে", সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহের "কাঁদো নদী কাঁদো" বা " একটি তুলসী গাছের কাহিনী" র মতো জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়া ছোট গল্প, শৈলবালা ঘোষজায়ার কলমে ফুটে ওঠা "শেখ আন্দু"র জীবন যন্ত্রণা, আবু ইসসাকের "সূর্যদীঘল বাড়ি"র স্নিগ্ধতায় "চিলেকোঠার সেপাই" এর প্রলেতারিয়েট চরিত্র"হাড্ডি খিজিরে"র সঙ্গেই একাত্ম করে দিয়েছে"ভেজা তুলোর নৌকো"তে।
খানিকটা প্রথা ভাঙার প্রথা সোহরাবের লেখনীর একটা বড়ো বৈশিষ্ট্য। এই বইটির প্রতিটি গল্পেই তিনি ছোট গল্পের প্রচলিত ফর্মকে ভেঙেছেন। চলমান ধারাকে ভেঙেচুরে নোতুন একটা ধারাকে উজান বেয়ে এগিয়ে দেওয়া -সোহরাকের সার্বিক সৃষ্টির একটা বিশেষ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।এই বইটিতে সেই নোতুন একটা ধারা তৈরির পদ্ধতি প্রতিটি গল্পেই রয়েছে। "রাজেশ নামে বালকের গল্প- এক অথবা এক অমর সন্তানের গল্প" কেমন যেন একটা ঝা চকচকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের। আমরা যারা মনে করি নিজেরাই বুঝি এই গোটা ভারতীয় সমাজটিকে জানি বুঝি--আমাদের সুসংবব্ধ জীবনচর্চাতে সবকিছুই যেন একটা ভাবনার রং হয়ে উথলে উঠছে জীবনের ক্যানভাসে।রাজেশ সিরিজের তিনটি গল্প ই রচনা করেছে পরাবাস্তবতার একটি আশ্চর্য দুনিয়াটাকে।ছবি আঁকা যেন এই "রাজেশ" সিরিজের এইটা রূপকল্প। ছবি আঁকতে গিয়ে ছবির ভিতরের ছবি দেখতে দেখতে জীবনের রঙে রাজেশের উত্তরণ --আমাদের দাঁড় করিয়ে দেয় মনের আয়নার সামনে।আয়নায় দেখা বিপন্নতার মাঝেই একটা চরম অভিব্যক্তি বুঝিবা কেয়ামতের প্রতি রাসেদের জিগ্যাসা।
"--ঠিক ই বলি।বলি, দরবেশ চোখটি তোমার অন্ধ নাকি? দুচোখ মেলে মেটের হাটটারে আজ কি তুমি দেখোনি?শালারা আমারগা দু-দুখানা দোকান পুড়গে দেয় নি? -তা দেছে । তবে.... -তবে আবার কী? তুমি মুসলমানের ছেলে না ফকির?"( অস্তিত্বের অতিথি-এক,পৃষ্ঠা -৫২) আমাদের দাঁড় করিয়ে দেয় মনের আয়নার সামনে। যে আয়নাটাতে অনেক নাড়া চাড়া করেও আমরা মনের মানুষকে দেখতে পাই, আবার পাই ও না।রবীন্দ্রনাথের ভাষাতে যাকে বলা যায়;"হয়তো চিনি, হয়তো চিনি, হয়তো চিনি নে তোমাদের বাস কোথা হে পথিক ওগো দেশে কি বিদেশে।" দ্বীপের রাজা অঘোর আলি।নেতার স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে দ্বীপের সাম্রাজ্য দেখিয়ে বেড়ানোর ফাঁকে দেখাচ্ছেন কি আমাদের জীর্ণ দীর্ণ সময়ের সালতামামিকে?সময়ের তামাম জিম্মাদারি কি নিয়েছেন অঘোর আলি? ।এম্বারের আশঙ্কা আসন্ন ভোট।দেবে তো দ্বীপের লোকগুলো ভোটের বাস্ক উজার করে তার ঝুলিতে? মেম্বার ভাবে। জেলার নেতা ভাবে।জেলার নেতার সঙ্গে আমার সংযোগ খোদ রাইটার্সের।
সেই লালবাড়ি রাইটার্সের পলেসতরায় জমতে থাকা ধুলোতে পাল তোলা নৌকা কি চুপসে যাবে ভেজা তুলোর চাপে?প্রশ্ন জাগান সোহরাব। সেই প্রশ্ন ভাসতে থাকে কালে, কালান্তরে।উজান বেয়ে পাল তুলে এগিয়ে যায় নৌকো। ভেজা তুলোর নৌকো সোহরাব হোসেন অভিযান ৩৫০ টাকা

সৈয়দ তনভীর নাসরীন,2016-05-09

এখনও সমুখে রয়েছে সুচির শর্বরী... জীবনে প্রতিদিন কতবার যে এই কবিতার লাইনগুলো আমার বেঁচে থাকা বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়। এই কবিতার বিভিন্ন লাইন যে জীবনে কতবার মন্ত্রজ্ঞানে উচ্চারণ করেছি, কত দুঃখ, কত দ্বন্দ্বের মুহূর্তে। হে ঠাকুর, তোমার ভরসায় একমাত্র তোমার ....

স্টাফ রাইটার,2016-03-09

জয়পুর: লেখক অমিশ ত্রিপাঠি, যিনি শিব ট্রিলজির জন্য বিখ্যাত, একই সঙ্গে ৫ জন শিশুকে নিয়ে গল্প লিখেছেন। এই শিশুদের বয়স ৬-১০ বছর। ‘পঞ্চ নানহি কালমেন’-র লক্ষ্যই শিশুদের গুরুত্ব দিয়ে শোকেস করা। তাদের স্বাভাবিক পুঙ্খানুপুঙ্খ কল্পনা-গল্প বলার ক্ষমতা সব ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ....

স্টাফ রাইটার,2015-12-01

বাকিংহাম: পার্ল এস বাক-এর 'গুড আর্থ' বইটিতে আমরা পাই প্রধান চরিত্র ও লাং নিজের সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে নিজেই নাড়ি কেটেছিলেন। এসময়ে অন্য চিত্র দেখা গেল। ১১ বছরের মেয়ে যে কিনা কোনও দিন স্কুলেই যায়নি! সেই জন্ম দিল নিজের বোন অর্থাৎ মায়ের সন্তানের।...

স্টাফ রাইটার,2015-11-07

লন্ডন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম ট্রেঞ্চের ভেতর ভারতীয় সেনাদের মধ্যে বাড়ির তৈরি মিষ্টি নিয়ে ঝগড়া বেধে যায়। ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছে এটি তখন আলোচনার বিষয় ছিল।বিদেশের মাটির জন্য লড়াই করতে আসা ভারতীয় সৈনিকের হতাশায় ভুগতো। দেশের মিষ্টিই তাদের ....

স্টাফ রাইটার,2015-10-09

কলকাতা: মেনটাইডের ২০তম বাৎসরিক অনুষ্ঠান ৬ অক্টোবর লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস স্কুলের 'লরেন্স হল'-এ অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এছাড়া রানু ভট্টাচার্য, প্রখ্যাত গায়ক সপ্তক ভট্টাচার্য, চার্চের বিশপ রেভারেন্ড অ্যান্ড্রু সিমিক, লা মার্টিন ....

স্টাফ রাইটার,2015-10-06

'স্যাস' নাট্যপত্রিকাটি দীর্ঘ দিনের পরিচিতি নাম। সেই 'স্যাস প্রকাশনা' এবার পুজোয় অনন্দের বার্তা নিয়ে আসতে চলেছে তিনটি বই প্রকাশ করে। আগামী ১২ অক্টোবর মহালয়ার দিন রোটারি সদনে সন্ধ্যে সাড়ে ৬টায় বইগুলি প্রকাশ করবেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বৈচিত্রে ভরা এই বইগুলি। শিশুদের জন্য ....

স্টাফ রাইটার,2015-08-14

এই ওয়ার্কশপে অনুপ রায় এঁকেছেন গান্ধীজি ভিখিরি আর আজকের রাজনীতিবিদদের হাতে ভারতের ঝান্ডা ভুড়িওয়ালা বিশাল বপুর অধিকারি, মাথায় নেহেরু টুপি। এর থেকে বড় ব্যাঙ্গ আর কি হতে পারে! কিন্তু গান্ধীজির পড়নে ছেড়া কাপড় ও ছিন্ন থলি হলেও তিনি বিশাল। যেন তিনি লার্জার দেন ...

স্টাফ রাইটার,2015-08-13

ছবি আঁকছেন বহুদিন ধরে। ষাটের দশকে প্রথম প্রদর্শনী। তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। এঁকেছেন হাজার হাজার ছবি। তার সমসাময়িকদের কেউ এখন আর ছবি আঁকতে তুলি হাতে নেন না, এমনকি পরের প্রজন্মের অনেকেই তুলে রেখেছেন তুলি। কিন্তু তিনি এখনও একের পর এক এঁকে চলেছেন ছবি। এই শিল্পী রবীন মন্ডলের ছবির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে...

স্টাফ রাইটার,2015-07-29

হিউস্টন: সাহিত্যিকের কাজ লেখা, কিন্তু আইনজীবী যখন সাহিত্যিকের কলম কেড়ে নিয়ে লেখেন তখনই তৈরি হয় 'নাম রেখেছি আফ্রিকা'। লেখক তমাল কান্তি মুখোপাধ্যায়। মাসাইমারার জঙ্গলে তার অভিজ্ঞতা ও বহু মূল্যবান ছবি নিয়ে তৈরি এই ভ্রমণ কাহিনি। সম্প্রতি বইটির শুভ উদ্বোধন হল নর্থ অ্যামেরিকান বঙ্গ ...

স্টাফ রাইটার,2015-07-25

কলকাতা: দিনে দিনে পরিষেবা বেড়ে চলেছে সিন্ডিকেট ব্যাঙ্কের। গত দুটি আর্থিক বছরে গ্রোথ রেটের দিক থেকে এই ব্যাঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে অন্য সকল ব্যাঙ্ককে। গত আর্থিকবর্ষে গ্রোথ রেট ১৮.৬ শতাংশ। ব্যাঙ্কের ব্যবসা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সারা ভারতের পাশাপাশি পূর্বভারতেও এর সাফল্যের হার আকর্ষনীয়। ...