বারে বারে ব্যাঙ্কক


দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাঙালির যাতায়াত এখন বিদেশের আনাচে কানাচে। পুরী, গোয়া, দীঘা, তাজপুর-এর মতই ঘরের পাশেই বিদেশ সফরে বেরিয়ে পড়া। ব্যবসার কারনেই হোক বা ঘোরার উদ্দেশ্যে, দেখতে দেখতে বারো-তেরোবার যাওয়া হয়ে গেল ফ্রায়া নদীর পাড়ের ঝাঁ চকচকে আধুনিক শহর ব্যাঙ্কক-এ।
কিছুদিন আগেই পরিবারের সকলকে নিয়ে কলকাতা থেকে বিমানে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ব্যাঙ্ককে পৌঁছলাম। ভোররাতে এয়ারপোর্টে পৌছানোর পর সেখান থেকে সোজা চকচকে মসৃণ রাস্তা ধরে পাটায়া। দুদিনের পাটায়া শহর আবারও মুগ্ধ করল। সি বিচের পাশাপাশি এখানকার বিভিন্ন শো মনোমুগ্ধকর। আর রাতের জীবনও ভোলবার নয়। দুদিন সেখানে কাটানোর পর ব্যাঙ্কক ফেরা। হোটেলে একটু ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে পড়া। সাইট সিয়িং এর জন্য ট্রাভেল এজেন্সি থেকে একটা ভালো গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। দেখলাম গ্র্যান্ড প্যালেস। এখানকার রাজপ্রাসাদ সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত খোলা থাকে। রাজপ্রাসাদের গঠন শৈলীতে মনোমুগ্ধকর ছোঁয়া। সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসটি হল গ্রান্ড প্যালেসের ১৫০ বছরের পুরোনো বুদ্ধ মন্দির। প্রায় ৪০ মিটার শায়িত বুদ্ধ মূর্তিটিতে পান্নার কারুকার্য্য নজরকাড়া। চাও ফ্রায়া নদীর পাড়ে ওয়াত আরান মন্দির। প্যাগোডা ধাঁচের মন্দির, মিউজিয়াম রাজপরিবারের ছবি দেখলাম। সেখানকার ঐতিহ্য মুগ্ধ করল। থাই আর্ট, নানান এন্টিক পিসে বুঁদ হয়ে আছি। রয়্যাল গার্ডেন মিউজিয়াম নানান পেন্টিং, রাজপরিবারের রত্ন খচিত বজরা দেখে অবাক হলাম। শিল্পকলা ও রাজকীয় বৈভবের রূপ দেখেও মুগ্ধ হলাম। এতক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে ক্ষিদেটা বেশ চড়চড়িয়ে বেড়ে গেল। ওপেন এয়ার রেস্তোরাঁ, থাই ফুডের সম্ভার থেকে মিক্সড চাউমিন গোগ্রাসে সাবাড় করে ফেললাম। নদীর ধারেই এরকম প্রচুর রেস্তোরাঁর দেখা মিলবে। কলকাতার থাই ফুডের থেকে এখানকার খাবারের স্বাদ সম্পূর্ণ ভিন্ন। দামেও সস্তা।
দেখলাম নদীর বুকে ভেসে থাকা বাজার। নদীর বুকে যেন দিব্যি ভেসে বেড়াচ্ছে আস্ত একটা শহর। মেয়েরা নৌকায় নানান গৃহস্থালী সামগ্রী থেকে ফলফুল বিক্রি করছেন কিন্তু সবটাই নৌকোয় ভেসে। কাস্টমাররাও ভেসে ভেসে দিব্যি মার্কেটিং করে যাচ্ছে। চায়না টাউনের কাছেই রয়েছে বুদ্ধ মন্দির। পাঁচ টন ওজনের সোনার বুদ্ধ মূর্তির মায়া দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যে হয় হয়। সন্ধ্যের ব্যাঙ্কক যেন আলোয় মোড়া এক মায়াবি শহর। গোটা শহরটা কেউ যেন আলোয় মুড়ে দিয়েছে। রাতের ডিনারে এখানকার বিখ্যাত লবস্টার চেখে দেখলাম। সিয়াম স্কোয়ার ও রাতচাপরসংহল এখানকার আদর্শ শপিং প্যারাডাইস। হোটেল, রেস্তোরাঁ, পোশাকআশাক, ফাষ্ট ফুড কর্ণার সবই এক ছাদের তলায়। জমজমাট এই শপিং কমপ্লেক্স প্রায় সারারাত ধরেই খোলা থাকে। এখানকার সিয়াম ওসান ওয়ার্ল্ডে রং-বেরঙের সামুদ্রিক জীব দেখার মত। আর সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে এখানকার বিখ্যাত ম্যাসাজ পার্লারে ঢুকে পড়া। বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় প্যাকেজ। ফ্রুট ম্যাসাজের জুড়ি মেলা ভার। পরদিন ভোরে বেড়িয়ে সাফারি ওয়ার্ল্ড ঘুরে দেখা। সেখানে বিভিন্ন শো দেখার পর গাড়ি করে বন্য প্রানীদের এলাকার মধ্যে ঢুকে পড়া। খুব কাছ থেকে বাঘ-সিংহ-ভাল্লুকদের দেখা এক অদ্ভুত শিহরণ জাগায়।
 

 

 

 

চেকলিষ্ট:

ভারত থেকে এখানকার সময় মাত্র দেড় ঘন্টা এগিয়ে। কলকাতা থেকে সরাসরি ব্যাঙ্কক যাওয়ার ফ্লাইট রয়েছে। নানান এজেন্সি রয়েছে যারা ব্যাঙ্কক-সহ অন্যান্য জায়গায় নিয়ে যায়। বিষদ জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ট্যুরিজম অথরিটি অফ থাইল্যান্ড। ( ফোন-০০৬৬-০২-১৫০-৫০০০) কলকাতার থাই দূতাবাসের অফিসেও যোগাযোগ করতে পারেন। সি জি ১৮৮, ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন, বালিগঞ্জ, কলকাতা-১৯, ফোন-(০৩৩) ২৪৪০-৭৮০৬।

 

লেখক:

গৌতম বাগচি