সোনালি বালির বাঁকিপুট


দিনদুয়েক দীঘার সমুদ্র সহ আশপাশ উপভোগ ও হোটেল সার্ফ রাইডে ভালই কাটলো। হাতে আরও ছুটি থাকতে অনেকেই চাইছিলেন মন্দারমনিতে আরও দু-একদিনের জন্য কাটাতে। কিন্তু এক বন্ধুর পরামর্শে আমরা পাড়ি দিলাম কিছুদূরেই আর এক সমুদ্র তটে।
কলকাতা থেকে দূরত্ব খুব বেশি নয়। অথচ এখানকার সমুদ্র শান্ত-নিস্তরঙ্গ। ঠিক যেন পায়ের কাছে এসে মাথা নুইয়ে দেয়। নিস্বর্গের এই সমুদ্রপুরীর নাম বাঁকিপুট। দীঘা-তাজপুর-মন্দারমনির মতো হোটেল, রিসর্ট আর পর্যটকদের ভীড়ে ঠাসা নয়। শান্ত, নিঝুমপুর বললেও কম বলা হয় না। সোনালি বালির মুখ ঢাকে অসংখ্য অজস্র লাল কাঁকড়ার দল। বালির বুকে আঁকিবুকি কেটে তাদের দিন কেটে যায়। সমুদ্রের বালুকাবেলায় পা পড়তেই নিমেশে উধাও হয়ে যায় কাঁকড়ার দল। ঠিক যেন গ্রাফিক্সের যাদু। তারপর আবার সোনালি বালুকাবেলা। পাড় ছুয়েছে ঘন নিবিড় ঝাঁউবন। বাতাস ঝাউ এর শরীরে এলোচুলে খেলে বেড়ায়। আর সমুদ্রের কথা শান্ত নীল-নির্জনের সাদা ফেনার নুপুর পায়ে খেলে বেড়ায়। সমুদ্রের উচ্ছ্বাস প্রায় নেই বললেই চলে। শান্ত ঢেউ গুটি গুটি পায়ে এসে লুটোপুটি খায়। ঢেউ এর তালে তালে ফিরে আসে মাঝি মাল্লাদের নৌকা। একসময় মাছ নিয়ে তারাও মিলিয়ে যায় গহিন ঝাউবনের অন্তরালে। তারপর সমুদ্র শুধুই একা। সাগরের পশ্চিম পাড়ে তখন লালিমা ঢেকে যায়। অস্তগামী সূর্য ঝুপ করে ডুব দেয় সাগরের জলে। নির্জন একাকী সাগরবেলায় আবার শুরু হয়ে যায় লাল কাঁকড়াদের বাউন্ডুলেপনা। একটু বাতাস যেন ঝড় হয়ে ঝাঁউবনের শরীরে মেশে। উদার-উদাস বাঁকিপুটে নির্জনতায় সাগরের মুর্হুমুহু ঢেউ আছড়ে পড়ে। এবার হোটেলে ফেরার পালা। পরদিন ভোরে সাহিত্যসম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের অমরসৃষ্টি কপালকুন্ডলার মন্দিরে চলে আসা যায়। বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসে ঠাই পেয়েছিল কপালকুন্ডলার এই ভগ্নপ্রায় মন্দিরটি। এখন অবশ্য মন্দিরের হাল ফিরেছে। দূরে কালো-সাদায় মেশা লাইট হাউস চোখে পড়বে। যা এককথায় অসাধারণ। দু’এক দিনের ছুটিতে ঘরের পাশের চেনা সমুদ্রের অচেনা সৈকতপ্রান্ত বাঁকিপুট এককথায় অসাধারণ, অনবদ্য।

 

 

 

চেকলিষ্ট:

কলকাতা থেকে দীঘাগামী যে কোন বাসে চলে আসুন কাঁথি। সেখান থেকে জুনপুট হয়ে চলে আসা যায় বাঁকিপুট। থাকার জন্যে রয়েছে ঝিনুক রিসর্ট। ভাড়া ৮০০-১২০০।

 

লেখক:

সত্যরঞ্জন বিশ্বাস