স্বর্গের নাম সিলারিও


দিন কয়েক ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছি এ স্বর্গদ্বান থেকে ও স্বর্গদ্বান। এবারে জার্নি সিলারিও তে। সীমান্ত শহর পেডং থেকে আরও উপরে উঠতে উঠতে চোখে পড়ে পাহাড়ের রাস্তার ধারে লুংদেন(মন্ত্রপুত পতাকা)টাঙানো। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে হাজির আর এক স্বর্গদ্বান সিলারিও তে। সবুজ পাহাড় ঘেরা ছোট্ট গ্রাম। কাঞ্চনজঙ্ঘার ঝুল বারান্দায় এই সুন্দর গ্রামে কয়েক ঘর নেপালীদের বাস। ঘননীল আকাশে মাঝে মাঝে ভালোলাগার টুকরো টুকরো সাদা মেঘের ভেসে থাকা। একদিকে বন-পাহাড়। আর অন্যদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও তার সঙ্গী সাথীদের মুক্তঝরা হাসি। এ সব কিছুই এক ফ্রেমে, এক সঙ্গে হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় সিলারিও গ্রামে। সারাদিন প্রকৃতি আর কাঞ্চনজঙ্ঘার রঙ বদলের খেলা চলে অবিরাম। এখানে প্রকৃতির খোলা হিমেল হাওয়ায় হোমস্টে ভিত্তিতে থাকা, খাওয়া ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন রেবেল টিমের দেবু দা। সারাদিন শৃঙ্গরাজদের সঙ্গে কাটানোর পর সন্ধ্যে ঘনায় সিলারিওর উঠোনে। পশ্চিম আকাশের কোনে অসাধারণ রঙের ছোঁয়া। দূরের পেডং তখন পাহাড়ের বুকে নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে। কখন যে চোখের পাতা এক হয়ে গিয়েছিল বুঝতেই পারি নি।
পরদিন শীতমাখা কাকভোরে আধঘন্টার আঁকাবাঁকা পথে চলা রামিতে ভিউ পয়েন্টে। অধীর আগ্রহে এক অসাধারণ ভোরের অপেক্ষা শেষে বাধাহীন কাঞ্চনজঙ্ঘার সপার্ষদ ভোরের দূর্দান্ত আলোমাখা নৈসর্গিক শোভা দেখতে দেখতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো রূপসুধা পান করা। সেখান থেকে ফিরতে যেন মন চাই না। কিন্তু আমাদের তো এখানকার আরও অনেক স্বাদ নেওয়া তখনও বাকি। হোম স্টে তে ফিরে এসে গরম কফির স্বাদ নিয়ে এবার একটা ছোট্ট ট্রেক করে ভালেদুঙ্গা ক্লিফ-এর দিকে রওনা হওয়া। এখানে পাহাড় যেন শেষ হয়ে গিয়েছে, অনেক নীচে একটা সুন্দর ভ্যালি। দূরে একটা ছোট্ট বাড়ি, যার চারপাশের সবুজের সীমারেখা। এমন শান্তির, শান্ত সবুজ পাহাড়ের বুকে কয়েকটা দিন কোথা দিয়ে কেটে গেল টের পাওয়া গেল না।
 

 

 

 

চেকলিষ্ট:

কলকাতা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে শিলিগুড়ি। সেখান থেকে কালিম্পং হয়ে পেডং। এখান থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে স্বপ্নের সিলারিও গ্রাম। শিলিগুড়ি থেকে মোট দূরত্ব ৮৫ কিলোমিটার। বিদ্যুৎ নেই, তাই মোবাইলে যথেষ্ট চার্জ রাখুন। দোকানপাট বলতে পেডং কিংবা আলগোড়াই ভরসা। হোমস্টে ভিত্তিতে থাকা যায়। বিষদ জানতে যোগাযোগ করুন Rebel-এর ট্রাভেল ডেস্কে।

 

লেখক:

সজল ব্যানার্জি